Home / Uncategorized / অন্যান্য খবর / আগের মতোই চলবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা

আগের মতোই চলবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা

ঢাকা :: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার যাবতীয় কাগজপত্র পরীক্ষার পর মেডিক্যাল বোর্ড জানিয়েছে, নতুন করে বোর্ডের চিকিৎসকরা না বসা পর্যন্ত তার চিকিৎসা যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে। এছাড়াও বোর্ডের একজন চিকিৎসক সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী ঢাকার বাইরে থাকায় তার অনুপস্থিতিতে ডা. তাসনিয়া পারভীনকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দরকার হলে তাকে একজন গাইনোকলোজিস্ট বা ফিজিওথেরাপিস্টও দেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন রবিবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার (৬ অক্টোবর) বিকালে খালেদা জিয়াকে আদালতের নির্দেশে  কারাগার থেকে এনে বিএসএমএমইউ-এ ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। শনিবার বিএসএমএমইউ-এর ৬১২ নম্বর কেবিনে ভর্তির পর মেডিক্যাল বোর্ড প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুল জলিল চৌধুরী তাকে দেখে আসেন। আর আজ তার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করেছে মেডিক্যাল বোর্ড। তবে এখনও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি।

বিএসএমএমইউ পরিচালক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া গতকাল যেমন ছিলেন আজও তেমনই আছেন।

মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত সব কাগজপত্র দেখেছেন মেডিক্যাল বোর্ড। তারা পরবর্তীতে না বসা পর্যন্ত চিকিৎসা যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে বলে মত দিয়েছেন বোর্ডের এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এসময় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুন  উপস্থিত ছিলেন। সুবিধাজনক সময়ে তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। আগামীকাল (সোমবার) উনারা তাকে দেখবেন।

এদিকে, মেডিক্যাল বোর্ডের একজন চিকিৎসক ঢাকার বাইরে থাকায় বোর্ডটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের জানান, ‘ডাক্তার সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী বরিশাল গেছেন। তাই তার পরিবর্তে সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাসনিয়া পারভীনকে মেডিক্যাল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

মেডিক্যাল বোর্ড বদল করার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কোর্ট যে রায় দিয়েছেন সেখানে চার নম্বর প্যারায় স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে যে অধ্যাপক এম এ জলিল চৌধুরী ও সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ ছাড়া বাকি তিনজন যেন ড্যাব বা স্বাচিপের কার্যনির্বাহী সদস্য না হন। বোর্ডে যে কয়েকজন আছেন তারা কেউই ড্যাব বা স্বাচিপের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নন।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে যদি কোনও গাইনোকলোজিস্ট অথবা ফিজিওথেরাপির কোনও চিকিৎসক চাওয়া হয় তবে তা দেওয়া হবে।’

 

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার জন্য আদালতের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এর সদস্যরা হচ্ছেন কার্ডিওলজির অধ্যাপক সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক, অর্থোপেডিক বিভাগের অধ্যাপক নকুল কুমার দত্ত, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী, ফিজিক্যাল মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ। এর মধ্যে তিনজন খালেদা জিয়ার নিযুক্ত চিকিৎসক, বাকি দুজন সরকার নিযুক্ত নিরপেক্ষ চিকিৎসক।

খালেদা জিয়া নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ হওয়ার পর থেকেই অসুস্থতার কারণে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে তিনি বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির আগ্রহ দেখালেও সরকার কারা বিধি অনুযায়ী তাকে সরকারি হাসপাতাল বিশেষত বিএসএমএমইউতে ভর্তি করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আইনজীবী ও দলীয় নেতাদের মাধ্যমে নিজ দাবিতে  অনড় থাকায় গত ৬ মাসে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি তাকে। তবে এর মধ্যে দুইবার মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে সরকার। সর্বশেষ দ্বিতীয়বারে গঠন করা বোর্ডে সরকারপন্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সদস্যরা আছেন এমন অজুহাতে সেই বোর্ডের অধীনে চিকিৎসা গ্রহণে অসম্মতি জানান তিনি। এদিকে দ্বিতীয়বার বোর্ড গঠন করার আগেই ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে রিট করেন তার আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) সেই রিটের শুনানি শেষে ৫ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডে থাকা স্বাচিপ সমর্থক তিন চিকিৎসককে পরিবর্তন করে সেখানে খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসক নিয়োগের আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে তার নিরাপত্তা ও কারাবিধি বিবেচনায় নিয়ে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ-এ ভর্তি করাতে কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন আদালত। সে আদেশ অনুযায়ী গতকাল শনিবার খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ-এ ভর্তি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *