Home / সম্পাদকীয় / ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিন

ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিন

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের আগে রাজধানীর আশপাশেসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ বছর আগেভাগেই তা আমলে নিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বিজিএমই কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যেই তৈরি পোশাক কারখানা অধ্যুষিত এলাকা বলে খ্যাত ঢাকার আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামে বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের নরজদারি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও শিল্প পুলিশ কর্তৃপক্ষ। বেতন-বোনাসের দাবিতে রাস্তায় ব্যারিকেড, গাড়ি ভাংচুর, হানাহানি প্রভৃতি ঘটনা দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। এ কারণে ঈদের আগে শ্রমিকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে বেতন ভাতাদি পায় সে জন্য সরকার ও বিজিএমইএ মিলে অগ্রিম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আওতায় ঢাকাকে ১৫টি জোনে ভাগ করে জোনভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাইসিস কন্ট্রোল রুম কাজ করছে। এর বাইরে সরকারের গঠিত আঞ্চলিক ক্রাইসিস কমিটি কাজ করছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইইএর সূত্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাখিল করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেতন-বোনাসের দাবিতে রাজধানীর অদূরে আশুলিয়া, সাভার ও টঙ্গী এলাকার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারের ঈদেও রাজধানীর আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়তে পারেন। এর ফলে শ্রমিকরা ঈদের আগেই বেতন-বোনাসের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রামে নামতে পারে। এর ফলে ওই এলাকয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্প পুলিশ আরও একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনেই এ আশঙ্কার কথা জানা গেছে। প্রতিবেদন পাওয়ার আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশসহ কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। শ্রমিকরা যাতে কোন আন্দোলন-সংগ্রাম না করতে পারে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারখানার মালিকদেরও এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কারখানা মালিকদের এই জুন মাসের মাঝামাঝি একসঙ্গে প্রায় তিন মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে। এ মাসেই পরিশোধ করতে হবে মে মাসের বেতন। এরপর দিতে হবে ঈদের বোনাস। তার পরেও যে কোন ধরনের অসন্তোষ ঠেকাতে মালিকদের এই চাপ সামলাতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।একটি জাতীয় দৈনিকের সূত্র মতে জানা যায়, রাশিয়ায় অবস্থানরত বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কোন ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের সম্ভাবনা নেই। তার পরও আমাদের তৎপরতা রয়েছে। মালিকদের বলেছি, আগে থেকেই যে কোন ধরনের সঙ্কট নিরসন করতে। তবে সবাইকে মনে রাখতে হবে যে দেশের সব গার্মেন্টস কারখানা বিজিএমইএর সদস্য নয়। তাই সব কারখানার দায়িত্ব বিজিএমইএ নিতে পারবে না।

 

ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে, জিঞ্জিরাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দর্জির দোকানকেও এখন গার্মেন্টস বলে পরিচয় দেয়া হয়। এ ধরনের এমন অনেক কারখানা আছে যারা বিজিএমইএর সদস্য নয়। সারাদেশের এসব কারখানা বা দর্জির দোকানের মালিকরা তাদের শ্রমিকদের কীভাবে ম্যানেজ করেন বা চালান সে সবের দায়িত্ব তো আর বিজিএমই নেবে না। এ ছাড়া দেশের অধিকাংশ মানুষই জানে না যে আমাদের পোশাক কারখানা আমরা কীভাবে চালাই। বিষয়টি জানতে চান না। বর্তমান ব্যবসার পরিস্থিতি ভাল নয়। এ্যাকর্ড-এ্যালান্সের স্বেচ্ছাচারিতা, বায়ার হাউসগুলোর পক্ষপাতিত্ব ও বন্দর কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা প্রভৃতি কারণে রফতানি আয়ে ধস। তার পরেও শ্রমিকদের বেতন বোনাস নিয়ে মালিকদের আন্তরিকতার কমতি নেই। তবে শ্রমিক নামধারী কিছু সংখ্যক উচ্ছৃঙ্খল স্বার্থবাদীরা কোন কিছু না জেনেই এ শিল্প সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তারাই এ শিল্প সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ান। বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন, কিছু কারখানায় ছোটখাটো সমস্যা হয়ত থাকতে পারে। তবে যত সমস্যাই থাকুক ঈদের আগে তা সমাধান করা হবে। আশা করছি এ বছরও কোন গার্মেন্টস কারখানায় বেতন বোনাসের দাবিতে শ্রমিক অসেন্তাষ হবে না। তা ছাড়া আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি পুলিশের নজরে আছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক বিষয়টি তদারকি করছে। আসন্ন ঈদে বেতন বোনাস নিয়ে পোশাক কারখানাগুলোতে কোন রকমের শ্রমিক অসন্তোষ বা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের সজাগ দৃষ্টি কাম্য।

 

লেখক : কবি ও ব্যবসায়ী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *