Home / সারাদেশ / ঈদের পরদিনও বাড়ি ছুটছে মানুষ

ঈদের পরদিনও বাড়ি ছুটছে মানুষ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনেও বাড়ি ফিরছে অসংখ্য মানুষ। এদের বেশিরভাগই শ্রমিক এবং নিম্ন আয়ের মানুষ। ঈদের সময় যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়া এবং সিট স্বল্পতার কারণেও অনেকে ঈদের দ্বিতীয় দিনে গমণকে বেছে নেন। কিন্তু ঈদের পরেও প্রচুর যাত্রীর চাপ থাকায় দেখা গেছে, ট্রেনের বগি এবং ছাদ দুই জায়গাই ভর্তি। সেখানে তিল ধারণের কোনও জায়গা নেই। তাই নিজের আসনে বসার জন্য দরজা দিয়ে উঠতে না পেরে অনেকেই ওঠার জন্য বেছে নেন জানালা! কিন্তু তবুও মানুষ গ্রামের পথে যাচ্ছেন। যেভাবে পারছেন যাওয়ার  চেষ্টা করছেন। রবিবার (১৭ জুন) দুপুরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

 

স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মে শত শত যাত্রীর অপেক্ষা করছেন, টিকিট কাউন্টারের সামনেও দীর্ঘ লাইন। কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষারত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেকেই রিটার্ন টিকেট কাটতে এসেছেন এবং কেউ কেউ চলতি ট্রেনের টিকিট কাটতে এসেছেন।

 

 

নিচ থেকে ঠেলা দিয়ে জানালার ভেতর দিয়ে ট্রেনে ওঠা

 

রিটার্ন টিকিট কাটতে আসা মাহফুজুল হক জানান, তার বোন ঈদ করতে চট্টগ্রাম গেছেন কিন্তু তার ওখানে কেউ টিকিট কাটার নেই। তাই আমি এসেছি এখান থেকে ২৭ তারিখের রিটার্ন টিকেট কাটতে। কিন্তু কাউন্টার থেকে বললো এখনও ওইদিনের টিকিট দেওয়া শুরু হয়নি। টিকিট কাউন্টারে কথা বলে জানা যায় ২২ তারিখ পর্যন্ত অগ্রিম রিটার্ন টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

 

অন্যদিকে, জামালপুরগামী যাত্রী মহসিন বলেন, ঈদে যাওয়া হয় নাই কারণ বাসের ভাড়া বেশি চায়, আবার ট্রেনেও জায়গা নাই। তাই আজকে আসছি। কিন্তু আজকে আইসাও দেখি এই অবস্থা। পরে এই যাত্রীকেই জামালপুর কমিউটারের ছাদে উঠতে দেখা যায়। বিকেল ৩.৫০ মিনিটে জামালপুর কমিউটার কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়। এই কমিউটার ট্রেন কানায় কানায় যাত্রী পূর্ণ ছিল, এমনকি ছাদও। জামালপুর কমিউটার ট্রেন ১০ মিনিট বিলম্ব করে স্টেশন ত্যাগ করেছে।

 

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের সময় সারাদেশে প্রতিদিন আড়াই লাখেরও বেশি যাত্রী ট্রেনে যাতায়াত করে। এ জন্য ১৫০টি অতিরিক্ত কোচ বিভিন্ন ট্রেনে যোগ করা হয়েছে এবং ইঞ্জিনের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। ঈদের ৪দিন আগে থেকে ১৪টি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করেছে এবং ঈদের এক সপ্তাহ পর পর্যন্ত চলবে এসব ট্রেন। এসব বিশেষ ট্রেন ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ, রাজশাহী, পার্বতীপুর এবং চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর রুটে যাত্রী পরিবহন করবে।

 

 

কমলাপুর ছাড়ছে ট্রেন

 

ট্রেনের পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রেনের ছাদে যাত্রী ঈদের সময় হবেই। মানা করলেও শোনে না। তাদেরও তাই কিছু করার থাকে না। ট্রেন বিলম্বে ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,বেশিরভাগ ট্রেনেই যাত্রীর চাপ রয়েছে। তাদের ওঠানামার প্রয়োজনে ২০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত লেট হচ্ছে। তাছাড়া ছাদে চলাচলের ক্ষেত্রে কেউ কথা মানছেন না। ঈদের সময় তারা বাড়ি যাচ্ছেন, জোর করে তো আর নামিয়ে দিতে পারি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *