Home / আজকের পত্রিকা / টেস্ট কেইস নয়,বাংলাদেশ মর্যাদার সঙ্গেই টিকে থাকবে এম এ খালেক :

টেস্ট কেইস নয়,বাংলাদেশ মর্যাদার সঙ্গেই টিকে থাকবে এম এ খালেক :

এম এ খালেক :   স্বাধীনতা অর্জনের পর ’৭০ এর দশকের প্রথমার্ধে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঙ্গার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। প্রায় একই সময়ে আনতর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অর্থনীতিবিদ জাস্ট ফ্যালান্ড ও জন পার্কিনসন যৌথভাবে ‘ বাংলাদেশ: এ টেস্ট কেইস অব ডেভেলপমেন্ট’ শিেেরানামে একটি বই লিখেন। এই বইয়ে মূলত বাংলাদেশ আগামীতে টিকে থাকবে কিনা সে ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে বলা হয়েছিল,বাংলাদেশ যদি অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকে তাহলে সেটা হবে বিস্ময়কর। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিস বার্ণিকাট কয়েক বছর আগে প্রসঙ্গক্রমে বলেছিলেন,তিনি যখন কলেজ পর্যায়ে পড়াশুনা করছিলেন তখন আগামীতে বিশে^ যে সব দেশ অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম তাদের একটি তালিকা পড়ানো হতো। এতে বাংলাদেশের নামও ছিল। তিনি আরো বলেন,বাংলাদেশ বর্তমানে যেভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি অর্জন করে চলেছে তাতে সংশয়বাদিদের আশঙ্কা মিথ্যে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বাংলাদেশ আগামীতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার এই আশাবাদ যে মিথ্যে নয় বাংলাদেশ তা ইতোমধ্যেই প্রমান করতে সমর্থ হয়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ বিশ^ ব্যাংকের রেটিং অনুযায়ী নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের শর্ত পূরণ করে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তীর্ণ হবার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেছে। এতদিন আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও তা ছিল কার্যত স্বল্পোন্নত দেশ। জাতিসঙ্ঘ ১৯৭১ সালে বিশে^র দেশগুলোকে তিনটি বিশেষ ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করে। এগুলো হচ্ছে(ক) স্বল্পোন্নত দেশ,(খ) উন্নয়নশীল দেশ এবং (গ) উন্নত দেশ। মূলত অর্থনৈতিক সামর্থ এবং অন্যান্য কিছু শর্ত বিবেচনায় নিয়ে এই শ্রেণি বিভাজন করা হয়। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসঙ্ঘের সদস্য রাষ্ট্রে পরিণত হয়। পরের বছর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই থেকে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় ছিল। মাথাপিছু জাতীয় আয় কম,অনুন্নত মানব সম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে এমন দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। বর্তমানে বিশে^ ৪৭টি দেশ রয়েছে যারা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা প্রণীত হবার পর থেকে এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় মাত্র ৫টি দেশ চূড়ান্তভাবে এই তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সমর্থ হয়েছে। এগুলো হচ্ছে মালদ্বীপ,বাতসোয়ানা,কেপ ভারদে,সামোয়া এবং ইকুয়েটরিয়াল গিনি। জাতিসঙ্ঘের অর্থনৈতিক এবং কামাজিক কাউন্সিল(ইকোসক)এর উন্নয়ন নীতিামালা বিষয়ক কমিটি সিডিপি তিনটি বিশেষ সূচকের উপর ভিত্তি করে প্রতি তিন বছর অন্তর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করে। এই সূচকগুলো হচ্ছে,(ক) বিশ^ব্যাংকের এটলাস পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক প্রণীত মাথাপিছু গড় জাতীয়,(খ) পুষ্টি,স্বাস্থ্য,শিশু মৃত্যু হার স্কুলে ভর্তি ও শিক্ষার হার বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং (গ) অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক, যার মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা,বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবেলার সক্ষমতা,কৃষি খাতের অবদান এবং উপকূলীয় অ লের দুর্দশাগ্রস্থ জনসংখ্যান হার ইত্যাদি। এই তিনটি সূচক বা শর্তের যে কোনো দু’টি পূরণ করতে পারলেই একটি দেশকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই তিনটি শর্তই পূরণ করেছে। এ বছর উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য মাথাপিছু গড় জাতীয় আয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার। বিশ^ব্যাংকের এটলাস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু গড় জাতীয় আয় বর্তমানে ১ হাজার ২৭১ মার্কিন ডলার। মানব সম্পদ উন্নয়নে একটি দেশের স্কোর থাকতে হবে ৬৬ বা তারও বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশের স্কোর এ ক্ষেত্রে ৭২দশমিক ৯। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে স্কোর থাকতে হবে ৩২ বা তারও কম। বাংলাদেশের স্কোর হচ্ছে এ ক্ষেত্রে ২৪ দশমিক ৮। ২০২১ সালে মধ্যবর্তী পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশ যদি তার অবস্থান ধরে রাখতে পারে তাহলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশকে চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিশ^ব্যাংক ঘোষিত মধ্যম আয়ের দেশ এবং জাতিসঙ্ঘ কর্র্তৃক স্বীকৃত উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হবার যোগ্যতা অর্জনের বিষয় নিয়ে অনেকের মাঝেই বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই চূড়ান্তভাবে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তাই বলে এখনো উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত মর্যাদা অর্জন করেনি। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাংলাদেশকে আরো ৬ বছর অপেক্ষা করতে হবে। বিশ^ব্যাংকের শ্রেণি বিন্যাস অনুযায়ী, কোনো দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় যদি ১ হাজার ৪৫ মার্কিন ডলারের কম হয় তাহলে সেই দেশটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃত হবে। মাথাপিছু জা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *