Home / ফিচারড নিউজ / ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদেরও হয়রানি বাড়বে

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদেরও হয়রানি বাড়বে

ডেস্ক :: নিরাপত্তার নামে একটি অনিরাপদ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ফলে মুক্তমনা গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদেরও হয়রানি বাড়বে।

 

বুধবার বেলা ১১টায় তোপখানা রোডস্থ কমরেড নির্মল সেন মিলনায়তনে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ এসব কথা বলেন।

 

 

 

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ বাতিলের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ খান, জাগো বাঙালীর সভাপতি ড. মেজর হাবিবুর রহমান, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কাজী আমান উল্যাহ মাহফুজ, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম রেজাউল করিম, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির নিরাপত্তার জন্য পূর্বেও অনেক আইন ছিল। যেমন অশ্লীল বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধকরণ আইন-১৯৬৩, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২, তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬। যার মধ্যে বিতর্কিত ৫৭ ধারাও ছিল। এত আইন থাকা সত্ত্বেও এই আইনসমূহের সঠিক প্রয়োগ না থাকার কারণে প্রযুক্তির অপব্যবহার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এর জন্য দেশের জনগণকে কি দোষ দেয়া যায়?

 

তিনি প্রশ্ন রাখেন, হঠাৎ করে প্রযুক্তি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন না করে সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সত্যিই কি ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য? নাকি দেশের মুক্তমনা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সেই সঙ্গে সাধারণ শ্রেণির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের হয়রানি করার জন্য?

 

তিনি আরও বলেন, এই কারণে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা মনে করেন, এ আইনের ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারা স্বাধীন মতপ্রকাশের প্রতিবন্ধক। আমরাও মনে করি, এসব ধারা মুক্ত চিন্তা ও মতামত প্রকাশে সহায়ক নয়। অন্যদিকে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা পুলিশকে দেয়া হয়েছে। বাদ দেয়া হয়েছে ডিজিটাল এজেন্সির অনুমোদন নেয়ার বিষয়টিও ফলে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ৯ কোটি গ্রাহক রাস্তা বের হলে পুলিশের তল্লাশির নামে হয়রানির শিকার হতে পারেন এমনটা আমরা আশঙ্কা করছি। এতে করে দুর্নীতি বেড়ে সুশাসন অনিশ্চয়তার মধ্যে পরার সম্ভাবনাই বেশি।

 

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, পাসকৃত আইন বাতিল করে, পুনঃসংস্কার করে নতুনভাবে প্রযুক্তি খাতে গ্রাহকবান্ধব এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে মানবাধিকার রক্ষা করে এমন যুগোপযোগী আইন তৈরি করার দাবি জানাচ্ছি।

 

সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধিতা করে বলেন, স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। কথা বলার, প্রশ্ন করার অধিকার খর্ব করে, স্বাধীন ও মুক্তভাবে মতামত প্রকাশে, স্বাধীনতা খর্ব দেশের অগ্রগতি করা যাবে না। এই আইনে মানুষের মুখ ও চোখ বেঁধে দেয়া হয়েছে। এই আইনে পুলিশকে গ্রেফতারের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে তার অপব্যবহার যে হবে এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়।তিনি বলেন, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সংবাদমাধ্যমে দুর্নীতি ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, দুর্নীতিবাজদের বিপদ হলেও সমাজের জন্য উপকারী। এই আইনে সংবাদকর্মীদের কলম ও চোখ বেঁধে দেয়ার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ী মানুষ কোনো কালো আইন মেনে নেবে না।

 

বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে মানুষকে নিরাপত্তাহীন করা হয়েছে। দেশে অনেক আইন আছে তা যথাযথ প্রয়োগ হলে নতুন আইন দরকার নেই। অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট আসলে দুর্নীতিবিরোধী কোনো কথা বলা যাবে না। এর মাধ্যমে দুর্নীতিকে বৈধতা দেয়া চেষ্টা করা হয়েছে।’

 

সাবেক সংসদ সদস্য হুমায়ুন কবির হিরু বলেন, ‘এই আইন চালু হলে মতপ্রকাশ ও মানুষের বাকস্বাধীনতা খর্ব হবে। তাই এখনই এই আইন বাতিল করা দরকার। আগের সরকারের ধারাবাহিকতায় এই আইন করা হয়েছে। তাই চলমান রাজনৈতিক ধারা বাতিল করতে না পারলে কালো তৈরির ধারাও বহাল থাকবে।’

 

বুধবার বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কাজী মাহফুজের পাঠানো ইমেইল বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *