Home / অর্থনীতি / ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

অর্থনীতি ডেস্ক:: ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামীমসহ (একেএম শামীম) ৭ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনকভাবে চার কোটি টাকা জমা দেয়ার ঘটনা অনুসন্ধানের স্বার্থে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

 

একেএম শামীম ছাড়া অপর যে ৬ কর্মকর্তার ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে তারা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, এক্সিকিউটিভ অফিসার উম্মে সালমা সুলতানা, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউদ্দিন আসকারী আহমেদ, ম্যানেজার (অপারেশন) ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুতফুল হক, সাবেক হেড অব বিজনেস গাজী সালাউদ্দিন এবং গুলশান শাখার সাবেক ম্যানেজার ও এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

 

 

 

বুধবার দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে পুলিশের বিশেষ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) বরাবর ৭ জনের নামের তালিকাসহ একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘যাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে তারা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান শাখা থেকে ৪ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করিয়ে ওই টাকা অন্য এক ব্যক্তির নামে স্থানান্তর দেখানো হয়েছে। মানি লন্ডারিং আইনেও এটি অপরাধ। এ ঘটনায় দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সপরিবারে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।’

 

সূত্র জানায়, ইমিগ্রেশনে পাঠানো দুদকের চিঠিতে ‘একজন ব্যক্তির নামে ৪ কোটি টাকা স্থানান্তর’র যে অভিযোগ করা হচ্ছে ওই ব্যক্তি হচ্ছেন এসকে সিনহা। তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করতে দুদক এ পর্যন্ত ৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

 

৬ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুই ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা দেয়ার বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য ওই দু’জনকে তলবের কারণ দেখিয়েছিল দুদক। দুদকের নোটিশে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ না থাকলেও পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাই যে সেই ব্যক্তি তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই দু’জনের আইনজীবী বিচারপতি সিনহার সঙ্গে লেনদেনের কথাই বলেছিলেন।

 

এদিকে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে- তাদের দু’জনের নামে ব্যাংক হিসাব খুলেই ফারমার্স ব্যাংক থেকে ২ কোটি টাকা করে ৪ কোটি টাকা বের করে সেই টাকা এসকে সিনহার ব্যাংক হিসাবে পে-অর্ডরের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

সেই অভিযোগেরই অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বুধবার ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি একেএম শামীমসহ ৬ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা জবানবন্দিতে এমন কিছু তথ্য দিয়েছেন যার কারণে তাদের নজরদারির মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে তাদের বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জিয়া উদ্দিন ছাড়া বাকি ছয়জনকে দুদক প্রধান কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন। তাকে সহায়তা করেন সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের কেউ সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেননি। ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখার সাবেক ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন আহমেদ অন্য একটি মামলায় জেলে আছেন। দুদকের আশঙ্কা তিনি জামিন নিয়ে দেশ ছাড়তে পারেন। সে কারণে তালিকায় তার নামও রয়েছে।

 

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে বিতর্ক ও ক্ষোভের মুখে অক্টোবরে ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। তখন তার বিরুদ্ধে ১১টি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার কথা জানিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। যদিও ওইসব অভিযোগ সম্পর্কে দুদক এখনও কিছুই জানে না। বা সে ধরনের কোনো অভিযোগেরও অনুসন্ধান হচ্ছে না।

 

বিদেশে থেকে সম্প্রতি নিজের লেখা বইয়ে সিনহা দাবি করেন, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্বাসনে পাঠানো হয়। তার এ বক্তব্য নিয়ে আলোচনার মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রোববার বলেন, সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুদক খতিয়ে দেখছে। পরদিন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কারও নাম প্রকাশ না করে বলেন, তারা একটি অভিযোগের অনুসন্ধান করছেন। তা শেষ হলে সাংবাদিকদের জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *