Home / ফিচারড নিউজ / ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের গেজেট প্রকাশ, প্রশাসক নিয়োগ শিগগিরই

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের গেজেট প্রকাশ, প্রশাসক নিয়োগ শিগগিরই

স্টাফ রিপোর্টার :: জটিলতা কিছুতেই কাটছিল না ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের। দেশের ১২তম সিটি করপোরেশন হিসেবে নিকারের অনুমোদনের পর শুরু হয় সীমানা নিয়ে জটিলতা। অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ভুলেই কেটে যায় ছয় মাস। সীমানা নিয়ে এসব জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে ৩২টি মৌজা নিয়ে যাত্রা শুরু করলো ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।

 

দেশের অষ্টম বিভাগ হিসেবে ময়মনসিংহের গেজেট প্রকাশের তিন বছরের মাথায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন (১২৫৪৮) নম্বর গেজেট মূলে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন-২ শাখার) আইন ও ক্ষমতাবলে সরকার ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করে।

 

রোববার (১৪ অক্টোবর) রাতে এই গেজেট প্রকাশের মধ্যে দিয়ে ময়মনসিংহবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। ফলে স্বভাবতই আনন্দ-উল্লাস বইতে শুরু করেছে নগরীর বাসিন্দাদের মধ্যে। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা।

 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ৯১ দশমিক ৩১৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত এই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শিগগির নিয়োগ দেবে। তবে কে হবেন প্রশাসক, এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো সূত্রই।

 

নবগঠিত এ সিটি করপোরশনে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৫ হাজার ১৬৭ জন। মোট জনসংখ্যা ৪ লাখ ৭১ হাজার ৮৫৮ জন।

 

তবে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান জানান, বিধি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নবগঠিত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ করবেন শিগগিরই। এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম শুরু হবে।

 

গেজেট অনুযায়ী ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩২টি মৌজা হচ্ছে- ময়মনসিংহ টাউন, গোহাইলকান্দি, গলগণ্ডা, বলাশপুর, কাশর, ভাটিকাশর, সেহড়া, কৃষ্টপুর, কেওয়াটখালী, চকছত্রপুর, রাক্তা, ঢোলাদিয়া, মাসকান্দা, বয়রা-ভালুকা, ছত্রপুর, আকুয়া (আংশিক), বাড়েরা, কল্পা, চর সেহড়া, হাসিবাসী, বাদেকল্পা, বাইসাখাই, খাগডহর, সুতিয়াখালী, রহমতপুর (আংশিক), কিসমত, বেলতলী, দাপুনিয়া (আংশিক), চর ঈশ্বরদিয়া, গোবিন্দপুর, চর রঘুরামপুর ও জেলখানার চর (আংশিক)।

 

এর আগে ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, জামালপুর ও শেরপুর জেলা নিয়ে দেশের অষ্টম ময়মনসিংহ বিভাগের গেজেট প্রকাশিত হয়। শর্ত অনুযায়ী আয়তন ও জনসংখ্যা কম হওয়ায় সম্ভব হচ্ছিল না ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ঘোষণা।

 

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে জনসংখ্যা ও আয়তন সংক্রান্ত শর্ত অব্যাহতি দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর ঠিক তিন মাসের মাথায় নিকারের বৈঠকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

পরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণের গেজেট জারির উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। কিন্তু গোল বাঁধে সীমানা নিয়ে। নীতিমালা মোতাবেক সিটি করপোরেশনের সীমানায় সেনানিবাসের কোনো অংশ না থাকার কথা থাকলেও সেখানে এক বর্গ কিলোমিটারের বেশি জায়গা পড়ে।

 

অবশেষে এসব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে রোববার (১৪ অক্টোবর) রাতে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বহুল প্রত্যাশিত গেজেট প্রকাশিত হয়।

 

গেজেট প্রকাশের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বেগম রওশন এরশাদ কালের আলোকে বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগের পর সিটি করপোরেশনের গেজেটও প্রকাশিত হলো। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর এসব সিদ্ধান্ত ইতিহাস হয়ে থাকবে।

 

ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমেই এমন কার্যকর উন্নয়ন সম্ভব। বিভাগের পর তিনি আমাদের সিটি করপোরেশন উপহার দিয়েছেন। ময়মনসিংহবাসী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।

 

সিটি করপোরেশনের গেজেট প্রকাশে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আরো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান, ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. সুবাস চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, প্রেসক্লাব ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল আলম খান, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক মোহাম্মদ শাহীনুর রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *