Home / আন্তর্জাতিক / শুল্ক নিয়ে ঘরে-বাইরে তোপের মুখে ট্রাম্প

শুল্ক নিয়ে ঘরে-বাইরে তোপের মুখে ট্রাম্প

ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শুল্ক বসানোয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক’ পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে কানাডা, মেক্সিকো ও ইউরোপের একাধিক দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শুল্ক বসাতে ১০ পৃষ্ঠার একটি তালিকা তৈরি করেছে।

 

 

এসব পণ্যের মধ্যে মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য রয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডাব্লিউটিও) চ্যালেঞ্জ জানানোর পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে ইইউ।

 

ট্রাম্পের দাবি, তিনি শুল্ক আরোপের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাতশিল্পকে রক্ষা করবে এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ট্রাম্পকে ফোন করে জানিয়েছেন, তাঁর এ সিদ্ধান্ত ‘অবৈধ’। একই শব্দ এর আগে ব্যবহার করেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সভাপতি বার্নড ল্যাঙ্গে।

 

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্যরা মনে করেন, বাণিজ্যযুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু তাঁরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপ এটাই প্রমাণ করে যে আইন নিয়ে তাঁর অবস্থান কঠোর নয়।

 

জার্মানির অর্থমন্ত্রী পিটার আলমায়ার আশা করছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমন সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে করে ট্রাম্প নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন।

 

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী লিয়াম ফক্স বলেন, ‘ইস্পাত আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।

 

 

 

’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইট নিক্ষেপের প্রতিবাদে ইইউ পাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিণতি খুবই করুণ হবে। ’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। ’ এ ছাড়া কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি—এমন অভিযোগও তিনি খারিজ করে দিয়েছেন। কানাডা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা এক হাজার ৩০০ কোটি ডলারের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

 

মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস ভিদেগারে জানান, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, শূকরের মাংস, আপেল, আঙুর, পনিরসহ বেশ কয়েকটি পণ্যে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

‘ঘরেও’ তোপের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর নিজ দলের (রিপাবলিকান) অনেকেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিপক্ষে। হাউস স্পিকার এবং কংগ্রেসের প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা পল রায়ান বলেন, ‘চীনের মতো যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য বিরোধ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমাদের উচিত মিত্রদের সঙ্গে কাজ করা। অথচ তাদেরই আমরা নিশানা বানিয়েছি। ’

 

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রোস জানান, সংকট নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে কোনো অগ্রগতি নেই। এর মানে হলো ইস্পাতের ওপর ২৫ শতাংশ এবং অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত এখন কার্যকর হয়ে যাবে। সূত্র : বিবিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *