Home / ফিচারড নিউজ / ‘সাত দফা অমান্য করলে যে শাস্তি পাবেন কল্পনাও করতে পারবেন না : ড. কামাল

‘সাত দফা অমান্য করলে যে শাস্তি পাবেন কল্পনাও করতে পারবেন না : ড. কামাল

প্রতিনিধি :: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জনগণ জেগে উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকার আর পালানোর পথ পাবে না। জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক সেটা তারা বেমালুম ভুলে গেছে। আর এই বাংলাদেশ কারও বাপের নয়, এই দেশের মালিক জনগণ। তাই জনগণের দাবি মেনে নিতে হবে। জনগণকে কষ্ট দিচ্ছে কারা, কারা লালদীঘি মাঠে সমাবেশের অনুমতি দিতে দেয় নাই তাদের খুঁজে বের করা হবে। তখন এই সব কিছুর কৈফিয়ত দিতে হবে। সংবিধানে করা শপথ যারা ভঙ্গ করেছে, সেই শপথ ভঙ্গের জবাব দিতে হবে। আমি বেঁচে থাকলে এর বিরুদ্ধে মামলা করে এর জবাব নেবো। স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার, ভোটের অধিকার সবাই চায়। তাই সাত দফা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করা হয়েছে। এ সাত দফা অমান্য করলে যে শাস্তি পাবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না। এই সাতদফা আদায় না হলে ঐক্যফ্রন্ট ঘরে ফিরবে না। এটা গণমানুষের দাবি।শনিবার বিকালে চট্টগ্রামের কাজির দেউড়িতে অবস্থিত মহানগর বিএনপির কার্যালয় নসিমন ভবনের সামনে আয়োজিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বাংলাদেশের প্রথম এই আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান ভঙ্গ করেছে। এর জবাব দিতে হবে। শাস্তি পেতে হবে এদেরকে। সময় থাকতে মেনে নিন, না হয় জনগণ পালানোর সেই সুযোগও দেবে না। সিলেটের মানুষ জেগেছে, চট্টগ্রামের মানুষ জেগেছ, এভাবে একদিন সারাদেশের মানুষ জেগে উঠবে। সেই দিনই এই সরকারের পতন ঘটবে।

 

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘যারা আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, অপরাধ করে—তারা মনে করে, পার তো পেয়ে গেছি। এখন কে আমাদের বিচার করবে? ইনশাআল্লাহ, এবার ন্যূনতম যেটা আমাদের দাবি, যে সাত দফা দাবি এগুলো সময় থাকতে মেনে নিন। কিন্তু, এটা অমান্য করলে বিচার হবে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়নি। ওই নির্বাচন সংবিধানবিরোধী হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে সংবিধান লঙ্ঘন করার জবাবদিহিতা, সেটাও জনগণ আপনাদের থেকে আদায় করবে।’সিলেটে গণরায় হয়েছে উল্লেখ করে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আজকে আপনারা জানিয়ে দিন, যারা ক্ষমতা আকড়িয়ে বসে আছে তাদের। হাত উঁচু করে বলুন, আপনারা সাত দফার পক্ষে আছেন কি না। আপনার রায় দিয়েছেন, এখানেও গণরায় হয়ে গেছে। এরপর আমরা রাজশাহীতে যাবো, শেষে ঢাকায় এটাকে আমরা সম্পন্ন করবো। এবার জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। আপনারা জেনে রাখুন, এই চিটাগং থেকে জনসভা করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। অর্থাৎ এটা অসম্ভব না। এটা সম্ভব।’

 

এ বক্তব্যেও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষের দাবি ও দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবির কথা তিনি শুরুতে বলেননি। এ সময় পাশ থেকে এক নেতা তাকে বিষয়টি মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়ার ব্যাপার নয়, এটা তো হওয়ার ব্যাপার। এটা আর কত চাওয়া হবে। চাইতে চাইতে তো মানুষ ক্লান্ত হয়ে গেছে। ওর মুক্তি অবশ্যই হোক।’

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ অক্টোবর সিলেটে প্রথম সমাবেশ করে ঐক্যফ্রন্ট। সেখানেও জনসভার শেষদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে অপর এক নেতা মনে করিয়ে দিলে, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তো সাত দফার মধ্যেই আছে বলে মন্তব্য করেন ড. কামাল হোসেন।

 

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য. খন্দকার মোশারফ হোসেন,  ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের সদস্য সচিব মোস্তাফা মহসিন মন্টু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্য আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান,  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল  নোমান, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মো. মনসুর, কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মো. ইব্রাহিম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্য সদস্য সচিব মোস্তাফা আমিন, এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহম্মেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু।

 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

এর আগে দুপুর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিতে থাকে। দুপুর ১টার আগেই মূল সমাবেশ শুরু হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে কাজির দেউরি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। সমাবেশকে ঘিরে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

সমাবেশ শুরুর আগে সকাল ১০টায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরপর তারা হজরত শাহ আমানত (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *