Home / ফিচারড নিউজ / সাত দফা দাবি না মানলে নির্বাচন নয় : বিএনপি

সাত দফা দাবি না মানলে নির্বাচন নয় : বিএনপি

নিজস্ব প্রতিনিধি :: সংসদ ভেঙে দিয়ে সরকারকে পদত্যাগ ও খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেওয়া সাত দফা দাবি না মানলে একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

দলটির নেত্রীর মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলনে থাকারও হুমকি দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’য় সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপি আয়োজিত গণঅনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন। সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এই অনশন চলে।

 

বিকেল ৩টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য এমাজউদ্দিন আহমেদ এসে বিএনপি মহাসবি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। সরকারের নিয়ন্ত্রণে এখন বিচার ব্যবস্থা চলছে। তার প্রমাণ গত দুই দিনে খালেদা জিয়ার মামলার রায়ে হয়ে গেছে।

 

তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের বিচার ও প্রশাসন ব্যবস্থাকেও তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। আজকে দেশে আর গণতান্ত্রিক দেশ নাই, স্বৈরাতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়েছে।

 

গণতন্ত্রের সঙ্গে খালেদা জিয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছেন দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্র মানেই খালেদা জিয়া। তাই আজকে তার মুক্তির দাবিতে অনিশন করছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে যখন বলা হলো-আপনার সাজা বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন তিনি বলেছিলেন তারা যত সাজা দিতে চায় দিক, আমি মাথা নত করবো না।’

 

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পরাজিত করার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আমাদের অধিকার আন্দোলন ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আদায় করবো।’

 

অনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়েছেন এই সাজা দেশের মানুষ মানে না। প্রাক্তন বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছেন, যেখানে প্রধান বিচারপতি নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে না।’

 

খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করা হলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের দাবি সব দলের অশংগ্রহণে নির্বাচন হতে হবে। এটা শুধু জনগণের নয়, বন্ধু রাষ্ট্রগুলো একযোগে বলেছে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে হবে। এর জন্য আমরা ১১ দফা দাবি দিয়েছি। প্রথম দফা দাবিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলেছি।’

 

‘খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন হবে না হতে দেওয়া হবে না। সংলাপে সাত দফা বাস্তাবায়ন ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাবো।’

 

সংলাপে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনের হুমকিও দেন বিএনপির এই নেতা।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকার একদিকে সংলাপের কথা বলে ব্যাপকভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেপ্তার করছে, অন্যদিকে আমাদের নেত্রীর সাজা ৫ বছর থেকে ১০ বছর করেছে। এগুলো আমাদের কাছে ভালো আলামত বলে মনে হচ্ছে না।’তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম আমাদের নেত্রী খালাস পাবেন। কিন্তু যা হয়েছে সেটি নজিরবিহীন। আমরা এটা গ্রহণ করি না। যতদিন পর্যন্ত আমাদের নেত্রীর মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় না হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

 

এ সময় দলের নেতা-কর্মীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে আন্দালনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

 

অনশনে অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় ৭ দিনের মধ্যে ধুলোর মতো উড়ে যাবে।

 

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে ১০ বছর করা হয়েছে। নতুন করে আরেকটি মামলায় ৭ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। এসব টিকবে না। ৭ দিনের মধ্যে সব ধুলোর মতো উড়ে চলে যেতে হবে।

 

সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা করা যাবে না। সংলাপের নামে কোনো ধাপ্পাবাজি চলবে না’।

 

নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে কার্পেট বিছিয়ে অনশনে বসেন নেতা-কর্মীরা। তাদের হাতে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের রায় বাতিলের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন দেখা গেছে।

 

অনশনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ. ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপির ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্নস্তরের নেতা-কর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

 

অনশনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতনও অংশ নেন।

 

এদিকে বিএনপির অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে মহানগর নাট্যমঞ্চের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *